বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে সামনে রেখে মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা
মো: রাজু মিয়া, (গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি)
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ (১লা বৈশাখ) উদযাপনকে ঘিরে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় নববর্ষ উদযাপনকে আনন্দঘন, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছালাম খান ও সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম রাজু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম এবং মুকসুদপুর থানার ওসি (তদন্ত) মতিয়ার মোল্লা। এছাড়াও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সায়্যদ উদ্দিন আহম্মেদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মুকসুদপুর জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. তুষার আহম্মেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম. এ. নাঈম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা রহমান এবং উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা শতাদ্ধী বিশ্বাস।
এছাড়াও রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টু, মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ছিরু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. ওহিদুল ইসলাম, মুকসুদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি তারিকুল ইসলাম এবং মুকসুদপুর রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি সাইদ আহম্মেদ মল্লিক টুটুলসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, আগামী ১৪ এপ্রিল (১লা বৈশাখ) সকাল সাড়ে ৭টায় একটি বর্ণাঢ্য নববর্ষের র্যালি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হবে। র্যালিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা, যেখানে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।
এছাড়াও দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে নববর্ষকে বরণ করে নেবেন। পাশাপাশি একটি বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হবে, যাতে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্য, হস্তশিল্প এবং স্থানীয় খাবারের স্টল স্থান পাবে।
সভায় নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে এবারের বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে আরও উৎসবমুখর, নিরাপদ ও স্মরণীয় করে তোলা হবে।