July 28, 2026, 3:09 am
শিরোনাম:
ভেদেরগঞ্জে নবম শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যা প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ। রৌমারীতে কোলের শিশু ফেলে প্রবাসীর স্ত্রীর পলায়ন: পারিবারিক সচেতনতা কতদূর? শরীয়তপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ আনোয়ার মোল্লার বিরুদ্ধে। চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান-১ সাময়িক বরখাস্ত: আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে অর্পণ গোপালগঞ্জ পৌরপার্কে বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন। মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে যুবদল নেতা কামরুজ্জামান স্বপন মাদক, জুয়া ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আলোচনা সভা। মুকসুদপুর স্কুল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের বিজ্ঞান ও মহাকাশবিষয়ক সংলাপ রিয়ান হত্যায় মানববন্ধনে উত্তাল কমলাপুর, আসামিদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ। পাবনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১জন মাদক ব্যবসায়ী ও ৫জন মাদকসেবী গ্রেফতার

রৌমারীতে কোলের শিশু ফেলে প্রবাসীর স্ত্রীর পলায়ন: পারিবারিক সচেতনতা কতদূর?

Reporter Name

রৌমারীতে কোলের শিশু ফেলে প্রবাসীর স্ত্রীর পলায়ন: পারিবারিক সচেতনতা কতদূর?

কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

রাতের নির্জনতা চিরে ভেসে আসা এক অবুঝ শিশুর করুণ আর্তনাদ যেন আজ পুরো রৌমারীর বিবেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। যে মায়ের পরম স্নেহে শিশুর নিরাপদ ঘুম নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেই মা-ই যখন মধ্যরাতের আঁধারে এক বছরের নিষ্পাপ সন্তানকে দরজায় ফেলে পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছাড়েন, তখন সমাজের নৈতিক বুনিয়াদ বলতে আর কিছু থাকে না। রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ী গ্রামের প্রবাসী লাল মিয়া বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যাচ্ছেন পরিবারের একটু সুখের আশায়। অথচ তার সেই ঘাম ঝরানো উপার্জনের বিনিময়ে ঘরে নেমে এলো চরম অবক্ষয়। শৌলমারী ইউনিয়নের সোলাইমানের ছেলে মিঠু মিয়ার হাত ধরে সুমি খাতুনের এই প্রস্থান কেবল একটি সংসার ভাঙার গল্প নয়; এটি রৌমারীর সুস্থ সামাজিক পরিবেশের ওপর এক বিষাক্ত আঘাত। বিবেকহীন মোহের কাছে পরাজিত মাতৃস্নেহ
মাতৃত্বের চেয়ে পবিত্র এবং শক্তিশালী বন্ধন পৃথিবীতে আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু আজ অন্ধ আবেগ আর অনৈতিক মোহ কতটা পৈশাচিক হলে এক মা তার নিজের রক্তের সন্তানকে কাঁদিয়ে ফেলে যেতে পারে? রৌমারীর আনাচে-কানাচে ইদানীং ছড়িয়ে পড়া এই সামাজিক ব্যাধি প্রমাণ করছে—আমাদের চারপাশের পরিবেশ কতটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অপসংস্কৃতির অনুকরণ, স্মার্টফোনের অপব্যবহার এবং পারিবারিক শিক্ষার অভাব আজ মানুষের বিবেক ও দায়িত্ববোধকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। এই অসুস্থ পরিবেশ সুস্থ করতে আমাদের করণীয় এই অবক্ষয় থেকে রৌমারীকে মুক্ত করতে হলে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আফসোস করলেই চলবে না; বরং পারিবারিক ও সামাজিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: পারিবারিক সচেতনতা ও নীতিশিক্ষা: প্রতিটি পরিবারে বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা ফিরিয়ে আনতে হবে। আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি মানসিকভাবে সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
সামাজিক প্রতিরোধ ও ঐক্য: অনৈতিক ও অপসংস্কৃতিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রৌমারীর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও সচেতন তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সোচ্চার হতে হবে। প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার: ডিজিটাল মাধ্যমে অপব্যবহার ও অনৈতিক যোগাযোগ বন্ধে পারিবারিক পর্যায়ে নজরদারি ও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রবাসী পরিবারের সুরক্ষা ও স্বজনদের দায়িত্ব: প্রবাসীদের অনুপস্থিতিতে তাদের পরিবারের মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষায় স্বজনদের অভিভাবকতুল্য ভূমিকা পালন করতে হবে। অবুঝ শিশুটির নিঃশব্দ কান্না আজ পুরো রৌমারীবাসীর কাছে এক বড় প্রশ্ন রেখে গেছে। আজ যদি আমরা এই নীতিহীনতার বিরুদ্ধে সচেতন না হই, তবে আগামী দিনে আমাদের সন্তানরা এক অনৈতিক ও অনিরাপদ সমাজে বেড়ে উঠবে। আসুন, পরিবার থেকে সচেতনতা শুরু করি—আমাদের প্রিয় রৌমারীকে এই অসুস্থ পরিবেশ থেকে রক্ষা করি।



https://www.facebook.com/share/1HLvQCbic1/