নির্বিঘ্ন ভোটাধিকার নিশ্চিতে আলীকদম সেনা জোনের কঠোর ও দৃশ্যমান নিরাপত্তা—ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন ও টহল জোরদার।
মোঃ মাহফুজুর রহমান মোর্শেদ
ক্রাইম রিপোর্টার বান্দরবান পার্বত্য জেলা—
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ ও গণভোটকে সামনে রেখে আলীকদম উপজেলায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আলীকদম সেনা জোনের তত্ত্বাবধানে জোরদার নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
আজ ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আলীকদম উপজেলার সকল ভোটকেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ভোটকেন্দ্রগুলোর ভৌত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও বহির্গমন পথ, পার্শ্ববর্তী ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকা চিহ্নিতকরণসহ সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
পরিদর্শনকালে কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা জনবল ও দায়িত্ব বণ্টন, সম্ভাব্য হুমকি মূল্যায়ন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদানের কৌশল নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে ভোটাররা যেন নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা, প্রধান যোগাযোগ সড়ক, জনবহুল এলাকা, বাজারকেন্দ্র এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানে নিয়মিত ও বিশেষ টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে আলীকদম সেনা জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত টহল, নিবিড় নজরদারি, চেকপোস্ট কার্যক্রম এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকে ঘিরে গুজব, অবৈধ কর্মকাণ্ড কিংবা আইনবহির্ভূত যে কোনো তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেতন ভূমিকা পালন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আলীকদম সেনা জোনের কার্যকর ও দৃশ্যমান নিরাপত্তা উদ্যোগের ফলে আলীকদম ও লামা উপজেলায় নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে একটি আস্থাশীল ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ভোটাররা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।