August 1, 2026, 4:10 pm
শিরোনাম:
চার দশকের পথচলা উদযাপন, মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রত্যয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেলসন ম্যান্ডেলা স্মৃতি সম্মাননা পেয়েছেন মুকসুদপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন মুকসুদপুর উপজেলা যুবলীগের সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেন রিপোর্টার্স ইউনিটের সভাপতি মোঃ তারিকুল ইসলাম গোপালগঞ্জে মাদকসহ দুজনের কারাদণ্ড বগুড়ার মহাস্থান ফুটওভার ব্রিজের নিচে অবৈধ দখলদারিত্বঃ চরম ভোগান্তিতে পথচারী ও যানবাহন চালকেরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতির ঘোষণা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতির ঘোষণা ভেদেরগঞ্জে নবম শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যা প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ। রৌমারীতে কোলের শিশু ফেলে প্রবাসীর স্ত্রীর পলায়ন: পারিবারিক সচেতনতা কতদূর? শরীয়তপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ আনোয়ার মোল্লার বিরুদ্ধে।

কেনো ৩ পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচন চায় স্থানীয় জনগণ

Reporter Name

কেনো ৩ পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচন চায় স্থানীয় জনগণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তীতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩ জেলায় (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান) আলাদাভাবে উক্তাপ ছড়াচ্ছে জেলা পরিষদ নিয়ে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আইনি পরিবর্তন ১৯৮৯ সালে স্থানীয় সরকার পরিষদ হিসেবে এর যাত্রা শুরু হলেও ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত “পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি”র আলোকে ১৯৯৮ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে এর নাম পরিবর্তন করে “পার্বত্য জেলা পরিষদ” রাখা হয়।

অর্থ্যাৎ, সমতলে যেটি ‘স্থানীয় সরকার পরিষদ’ সেটি পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘পার্বত্য জেলা পরিষদ’ নামে পরিচিত। অন্যান্য ৬১ জেলায় গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী ভোটের মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠিত হলেও ৩ পার্বত্য জেলায় জেলা পরিষদ গঠন হয় সিলেকশনের মাধ্যমে। তাও আবার কোটা ভিত্তিক সিলেকশন। তন্মধ্যে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো চেয়ারম্যান হতে পারবে শুধু উপজাতি ব্যাক্তিগণ। পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ি কোনো বাঙালি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারবে না!

চেয়ারম্যান বাদে ৩০ জন সদস্যদের মধ্যে ১১ জন থাকবে বাঙালি, উপজাতি থাকবে ১৯ জন। বর্তমানে ৩ পার্বত্য জেলায় বাঙালি জনসংখ্যার হার শতকরা ৫৬%। ৫৬% জনসংখ্যার বিপরীতে জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান হতে পারবে না কোনো বাঙালি ব্যাক্তি। অন্যদিকে ৩০ জন সদস্যের মধ্যে শুধু মাত্র মাত্র ১১ জনের বেশি বাঙালি, সদস্য হতে পারবে না। এসব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমে উঠেছে স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠীর মাঝে। বিশেষ করে বাঙালি জনগোষ্ঠীর ক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান পদের বন্টন ব্যবস্থা।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা হওয়া সত্ত্বেও আইনত কোনো বাঙালি এই পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারেন না। এই কাঠামোগত বৈষম্যকে স্থানীয় বাঙালিরা তাদের নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী এবং সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন। তাদের দাবি, যেখানে রাষ্ট্রের সংবিধানে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে, সেখানে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের শীর্ষ পদের জন্য জন্মগত বা জাতিগত পরিচয়কে বাধা হিসেবে দাঁড় করানো স্পষ্ট বৈষম্য। চেয়ারম্যান এবং পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর হওয়ায় বাজেট বরাদ্দ ও কর্মসংস্থানে বৈষম্যের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে।

পার্বত্য এলাকার সাধারণ মানুষ, নিয়োগপ্রাপ্ত বা মনোনীত পরিষদের পরিবর্তে নির্বাচিত প্রতিনিধি চাচ্ছেন। কারণ সিলেকশনের মাধ্যমে পূর্বের চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট জবাবদিহিতার অভাব, অনিয়ম, জাতিগত বৈষম্য ও দূর্ণীতির অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় মনোনীত ব্যক্তিরা ক্ষমতায় থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহিতা থাকে না। এতে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয় এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের বদলে নির্দিষ্ট মহলের স্বার্থ রক্ষা করে। পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের ১৬ নং ধারায় সরাসরি ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের বিধান থাকলেও তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। স্থানীয়রা মনে করেন, ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে পাহাড়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা সহজ হবে। সকল জাতিগোষ্ঠীর সম-অধিকার নিশ্চিত হবে।

এই বিষয় নিয়ে পাহাড়ের নাগরিকদের অধিকার আদায়ের সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের এক নেতা বলেন, “পার্বত্য চুক্তি মূলত করা হয়েছিল পাহাড়ের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে শুধুমাত্র। এই চুক্তিতে পাহাড়ে বসবাস করা ১২টি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে শুধু চাকমা ও মারমা’রা উপকৃত হয়েছে। তন্মধ্যে বাঙালি জাতি চুক্তির অধিকার তো দূরে থাক সাংবিধানিক অধিকারটুকুই হারিয়ে ফেলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ,আঞ্চলিক পরিষদ গুলো বিচ্ছিন্নতাবাদীদের টাকার উৎস হয়ে উঠেছে। বরাদ্দকৃত বেশিরভাগ খাদ্যশস্য ২ ভাগে ভাগ বাটোয়ারা হচ্ছে। এক ভাগ যায় চেয়ারম্যানের নিজ জাতির পকেটে, আরেক ভাগ যায় জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিকের ব্যাক্তিবর্গদের পকেটে। মধ্যদিয়ে উপজাতি ও বাঙালি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সকল সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছে”।

এছাড়াও সিলেক্টেড উপজাতীয় চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টান ক্যাথলিক মিসনারি কার্যক্রমে অর্থ সরবরাহ, সেবামূলক প্রকল্পের নামে চেয়ারম্যানের কাছের মানুষ ও নিজ জাতি/ধর্মে আঞ্চলিক নেতাদের নামে বেনামে প্রকল্প বরাদ্দ এবং চাকরিতে বৈষম্য’সহ ডজন খানেক গুরুতর স্পর্ষকাতর অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বেশ কয়েকবার আন্দোলন হয়েছিল জেলা পরিষদ নিয়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ প্রচারণা চালানোর অভিযোগে সাংবাদিকগণ তাকে বয়কটের ডাক দেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দূর্ণীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

আওয়ামিলীগ সরকারের আমলে বান্দরবানের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন কেশৈহ্লা। ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে জাতীয় পত্রিকা যুগান্তরে উঠে আসে তার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর ও ভয়ানক দূর্ণীতির ইতিহাস। পত্রিকাটিতে বলা হয়, “বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা গত ১৬ বছরে এমন কোনো অনিয়ম নেই যা তিনি করেননি। নিয়োগ, বদলি, টেন্ডার, জমি ও প্লট বাণিজ্য থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের ২৮টি বিভাগের প্রত্যেকটি প্রকল্পের কাজ থেকে পার্সেন্টেজ নিতেন। অন্যথায় প্রকল্পের বিল আটকে রাখতেন দিনের পর দিন। এভাবে প্রায় হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা। বান্দরবানজুড়ে প্রায় ৮শ একর জমির সন্ধান পাওয়া গেছে তার নামে, বেনামে এবং স্ত্রীর নামে। গত ১২ আগস্ট যুগান্তরে ‘অস্তিত্বহীন প্রকল্প দেখিয়ে ৭২০ কোটি টাকা লুট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে একে একে বেরিয়ে আসে চেয়ারম্যানের যত অপকর্ম ও সম্পদের বিবরণী। জানা যায়, ক্য শৈ হ্লার দুর্নীতির ছোঁয়ায় জেলা পরিষদের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীও কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তার সময়ে”।

সুতরাং, সব মিলিয়ে বিগত সময়ে যে যেভাবে পেরেছে শত শত কোটি টাকা সরকারি সম্পত্তি জবর দখল করে খেয়েছে। দাবি তোলার মতন কোনো জায়গা ছিলো না সেই সময়ে। তবে এবার পার্বত্যবাসী দাবি তুলেছে। বুকে সাহস নিয়ে দৃঢ কন্ঠে বৈষম্যের স্বীকারপ্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিটি জাতি পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচনের দাবি তুলেছে। সবার দাবি, ” এবার আর রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের সিলেকশনের মাধ্যমে নয়, ইলেকশনের মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠন করতে হবে”।



https://www.facebook.com/share/1HLvQCbic1/