রৌমারী সীমান্তে পুশইনের অপচেষ্টা: বিজিবি ও জনতার জাগ্রত প্রতিরোধ
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে এক অভূতপূর্ব ও উদ্বেগজনক ঘটনার সাক্ষী হলো সীমান্তবাসী। রোববার মধ্যরাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক প্রায় তিন শতাধিক ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের (অনুপ্রবেশ) একটি বড় ধরনের চেষ্টা নসাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় সাহসী জনতা। বিজিবি’র কঠোর অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ। এই ঘটনার পর থেকে পুরো সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার বিবরণ: মধ্যরাতের সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, রোববার রাত ১২টার দিকে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের বকবান্ধা সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানার ১০৬৮-৬৯ নম্বর মেইন পিলারের মধ্যবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভারতের সুদুরটিলা ক্যাম্প এলাকা থেকে বিএসএফ সদস্যরা কয়েকটি বড় গাড়িতে করে শত শত মানুষকে সীমান্তের কাঁটাতারের একদম কাছে নিয়ে আসে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অন্ধকার ও মধ্যরাতের সুযোগ নিয়ে এই বিশাল জনগোষ্টিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়া। তবে বিএসএফ-এর এই অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা শুরুতেই বিজিবি’র টহল দলের নজরে আসে। বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক অবস্থান নেয় এবং সীমান্তে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিজিবি-জনতার নজিরবিহীন ঐক্য পুশইনের এই খবর সীমান্তের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে এক নজিরবিহীন দৃশ্যের অবতারণা হয়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি’র পাশাপাশি বকবান্ধা, ঝাউবাড়ি, খেওয়ারচর ও আলগার চর এলাকার শত শত বাসিন্দা লাঠিসোটা ও দেশীয় আলো নিয়ে সীমান্তে ছুটে আসেন। যাদুরচর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন: “বিএসএফ প্রায় ৩০০ ভারতীয় নাগরিককে গাড়িতে করে সীমান্তে এনে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছিল। বিষয়টি টের পাওয়ার সাথে সাথেই বিজিবি’র পাশাপাশি চারপাশের কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। জনতার এই বিশাল উপস্থিতি ও বিজিবি’র অনড় অবস্থান দেখেই মূলত বিএসএফ তাদের পুশইনের অপচেষ্টা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়।” পিছু হঠলো বিএসএফ, এখনো কাটেনি আতঙ্ক
রৌমারীর বড়াইবাড়ি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার ওয়াহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, বিএসএফ-এর পুশইনের চেষ্টা টের পেয়েই বিজিবি এবং এলাকাবাসী একযোগে প্রতিহত করার জন্য অবস্থান নেয়। বিজিবি ও জনতার এই কঠোর ও সম্মিলিত রূপ দেখে পুশইন চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়ে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটে। তবে বিএসএফ সাময়িকভাবে পিছু হটলেও সীমান্তবাসীর মন থেকে আতঙ্ক এখনো দূর হয়নি। যেকোনো সময় আবারও এই ধরনের পুশইনের চেষ্টা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বকবান্ধা ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় বিজিবি তাদের টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও লাঠিসোটা নিয়ে বিজিবি’র সাথে সতর্ক পাহারায় শামিল হয়েছেন।
সীমান্তে বিএসএফ-এর এমন একতরফা ও আগ্রাসী আচরণ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মোটেও ইতিবাচক নয়। তবে রৌমারীর এই ঘটনা প্রমাণ করে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সাধারণ জনগণ কতটা সচেতন ও আপসহীন। যেকোনো মূল্যে দেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ড বা কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না—রৌমারীর বকবান্ধা সীমান্ত আজ সেই বার্তাই দিচ্ছে।