স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে বীরত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত: শহীদ সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার
মোঃ হাবিবুর রহমান, এসবিপি-এর আত্মত্যাগ
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ।
ক্রাইম রিপোর্টার বান্দরবান পার্বত্য জেলা।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও দেশমাতৃকার নিরাপত্তা রক্ষায় অসামান্য আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বীর সেনাসদস্য সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান, এসবিপি। তিনি বান্দরবান রিজিয়নের অধীনস্থ রুমা জোনের একজন দায়িত্বশীল সিনিয়র জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) হিসেবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান ছিলেন সৎ, মেধাবী, কর্মঠ ও দক্ষ একজন সৈনিক। পেশাগত জীবনে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার মাধ্যমে সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন মহলের আস্থা অর্জন করেছিলেন। পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে বান্দরবান রিজিয়নের অধীনস্থ রুমা জোন এলাকায় সন্ত্রাসীদের অবস্থানের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর নেতৃত্বে একটি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে টহল দলটি সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান অসীম সাহসিকতা ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে পাল্টা আক্রমণ পরিচালনা করেন।
তাঁর নেতৃত্ব ও সাহসী প্রতিরোধে ঘটনাস্থলেই ৩ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসীর মৃত্যু নিশ্চিত হয় এবং বাকি সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে গোলাগুলির এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি বুকে ও মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ১টি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ২৭৫ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩টি ম্যাগাজিন, ৩টি দেশীয় বন্দুক, ৫ রাউন্ড দেশীয় বন্দুকের গুলি, ৪ জোড়া সন্ত্রাসীদের ইউনিফর্ম এবং চাঁদাবাজির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
দেশমাতৃকার নিরাপত্তা, পার্বত্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে নিজের জীবন উৎসর্গকারী এই বীর সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তাঁর অসামান্য বীরত্ব ও সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাঁকে মরণোত্তর সেনাবাহিনী পদক (এসবিপি) প্রদান করে।
শহীদ সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান, এসবিপি-এর এই বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের সৈনিক ও দেশের মানুষের জন্য প্রেরণার অনন্য উৎস হয়ে থাকবে।