সরকারি জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় তিন কোটি টাকা উত্তোলন নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে এবার সাদুল্লাপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজনায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর বিরুদ্ধে।
মোঃ সুমন মিয়া
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে অর্পিত সম্পত্তি বা সরকারি জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় তিন কোটি টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আর সেই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালিগালাজ এবং ক্যামেরায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর বিরুদ্ধে।
ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সাদুল্লাপুর উপজেলার হাসানপাড়া মৌজার সাড়ে ছয় শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওই জমি ও স্থাপনার বিপরীতে প্রায় ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলন করেন পীরগঞ্জ উপজেলার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের সদস্যরা।
তবে অভিযোগ উঠেছে, অধিগ্রহণকৃত জমিটি মূলত অর্পিত সম্পত্তি বা সরকারি মালিকানাধীন জমি। এ নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আপত্তি জমা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক দাবিদার। তার অভিযোগ, প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
এই অভিযোগের বিষয়ে তথ্য জানতে বৃহস্পতিবার সাদুল্লাপুর উপজেলা ভূমি অফিসে যান সময় সংবাদ ও যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিকরা। অভিযোগ রয়েছে, প্রশ্নের মুখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন। তিনি সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন জমা রাখতে বলেন, প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টো ধমক দিতে থাকেন।
সাংবাদিকদের দাবি, একপর্যায়ে তিনি উচ্চস্বরে কথা বলেন, ক্যামেরা সরিয়ে নিতে বলেন এবং ধারণকৃত ভিডিওতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সাংবাদিকদের অফিস ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে নিজেও দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
অন্যদিকে ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণকারী জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর দাবি করেছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তিনি অর্থ গ্রহণ করেছেন। তবে পুরো ঘটনা ঘিরে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং তথ্য পাওয়ার অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকারি জমির ক্ষতিপূরণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ এবং তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ,দুই বিষয়ই এখন স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসবে প্রকৃত সত্য।