শান্তি, নিরাপত্তা ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম চায় পাহাড়ের মানুষ,
নির্বাচন সামনে রেখে রাষ্ট্রের কাছে দাবি সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের
নুরুল আবছার, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
মাতৃভাষা দিবসের মাসে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও পরিবর্তনের দাবি রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরেছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। সংগঠনটির মুখপাত্র পাইশিখই মারমা এক বিবৃতিতে পাহাড়ি অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক জটিলতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
পাইশিখই মারমা বলেন, “আমরা পাহাড়ের সন্তান। জন্মের পর থেকেই পাহাড়ের মানুষ নানা বঞ্চনা, জটিলতা ও অবহেলার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় আঞ্চলিক বিচ্ছিন্ন সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার মধ্যে বসবাস করছে।
তিনি আরও বলেন, বছরে কয়েক দফা বাঙালি ও অ-বাঙালিদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও আঞ্চলিক সংগঠন নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকায় নারী ও শিশুদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পাইশিখই মারমা প্রশ্ন রাখেন—“স্বাধীনতার ৫৪ বছর এবং তথাকথিত শান্তি চুক্তির প্রায় তিন দশক পার হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ কী পেল?” তিনি দাবি করেন, নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও নীতিনির্ধারকরা ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমানে পাহাড়ে একাধিক সশস্ত্র বিচ্ছিন্ন সংগঠনের উপস্থিতি সাধারণ যুব সমাজকে অবৈধ অস্ত্রধারী কর্মকাণ্ডে জড়াতে উৎসাহিত করছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর নির্বাচনের সময় পাহাড়ে তথাকথিত সম্প্রীতির বয়ান সামনে আনা হলেও বাস্তবে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে ভোটের রাজনীতিকে প্রভাবিত করে। বাঙালি প্রার্থীদের বিপক্ষে মগজধোলাই চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।
পাহাড়ের মানুষের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মুখপাত্র বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রধারী ও বিচ্ছিন্ন সংগঠনের মগজধোলাই বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাঙালি ও অ-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধানে রাষ্ট্রের আন্তরিক উদ্যোগই পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি নিশ্চিত করতে পারে বলে তিনি মত দেন