রৌমারীতে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের আড়ালে অশ্লীলতা: হুমকির মুখে সামাজিক মূল্যবোধ
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
সীমান্তবর্তী উপজেলা রৌমারীতে সম্প্রতি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হওয়ার হিড়িক পড়েছে। তবে সৃজনশীলতা ও জনসচেতনতামূলক কাজ করার কথা থাকলেও, কতিপয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে উঠেছে অশ্লীলতা, ফ্রি-মিক্সিং এবং পরকীয়ার মতো অনৈতিক সম্পর্ককে উসকে দেওয়ার অভিযোগ। বিনোদনের আড়ালে এসব কন্টেন্ট সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
‘দেবর-ভাবি’ সস্তা রসিকতায় উসকানি
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রৌমারীর স্থানীয় কিছু কন্টেন্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বিশেষ করে ‘দেবর-ভাবি’ কেন্দ্রিক কিছু কন্টেন্ট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, প্রবাসী স্বামীর অবর্তমানে দেবর ও ভাবির মধ্যে কুরুচিপূর্ণ সংলাপ এবং পরকীয়াকে স্বাভাবিক হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক জানান, “এসব কন্টেন্টে যে ধরনের ভাষা ও ইঙ্গিত ব্যবহার করা হয়, তা পরিবারের সবার সামনে বসে দেখা অসম্ভব। বিশেষ করে প্রবাসীদের পরিবারকে ছোট করে দেখানোর এক অদ্ভুত প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।”
কন্টেন্টের আড়ালে যা ঘটছে
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সস্তা জনপ্রিয়তার আশায় এবং ফেসবুক-ইউটিউব থেকে দ্রুত অর্থ উপার্জনের নেশায় এই ভিডিওগুলো তৈরি করা হচ্ছে। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে দ্ব্যর্থবোধক শব্দ ও আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি। স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, রৌমারীর মতো একটি রক্ষণশীল এলাকায় এসব কর্মকাণ্ড কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের নৈতিক চরিত্র ধ্বংস করছে।
স্থানীয়দের দাবি
এলাকাবাসীর অভিযোগ, “কন্টেন্ট ক্রিয়েটর” পরিচয় দিয়ে এরা সমাজে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। যেখানে সুস্থ ধারার ভিডিওর মাধ্যমে এলাকার ঐতিহ্য ও সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ ছিল, সেখানে তারা বেছে নিয়েছে কুরুচিপূর্ণ পথ। সচেতন মহল অবিলম্বে এসব ভিডিও নির্মাতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নজরদারি এবং সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ মতামত: সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পরকীয়া বা পারিবারিক অসভ্যতাকে যখন বিনোদনের মোড়কে বারবার উপস্থাপন করা হয়, তখন সাধারণ মানুষের অবচেতন মনে তা স্বাভাবিক বলে গৃহীত হতে শুরু করে। যা দীর্ঘমেয়াদে একটি সুন্দর সমাজের জন্য অশনিসংকেত।
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
মোবাইলঃ01740453802