রাজনীতির রসায়ন: যখন ‘হাতপাখা’র মঞ্চে ‘বালতি’র জয়গান
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি | ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে জোট-মহাজোট বা তলে তলে সমঝোতার গল্প নতুন কিছু নয়। কিন্তু প্রকাশ্য জনসভায় নিজের প্রতীক ছেড়ে অন্য প্রার্থীর প্রতীকে ভোট চাওয়া? এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। ২৮-কুড়িগ্রাম-৪ আসনের চিলমারীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর মুখে ‘বালতি’ প্রতীকের স্তুতি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় টক অফ দ্য টাউন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) চিলমারীর ফকিরেরহাট এলাকায় একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হাফিজুর রহমানের একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলছেন, “আমার শাহীন ভাইকে ভোট দেবেন… যোগ্য মানুষও বটে শাহীন ভাই।” নিজের মার্কার কথা বলার পাশাপাশি তিনি যেভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহীন মিয়ার (বালতি প্রতীক) পক্ষে সাফাই গাইলেন, তা অনেককেই অবাক করেছে।
কৌশল নাকি আদর্শিক সমঝোতা?
ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা শাখার ভাষ্যমতে, এটি একটি কৌশলগত অবস্থান। তাদের যুক্তি—যেহেতু তাদের মূল প্রার্থী রৌমারীর স্থানীয়, তাই চিলমারীর ভোটাররা যদি ভৌগোলিক কারণে (নদী পারাপারের ঝক্কি) ভোট দিতে না চান, তবে তারা যেন ‘ইসলামের নামে ধোকাবাজ’ কাউকে ভোট না দিয়ে যোগ্য স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বেছে নেন।
ভৌগোলিক বাস্তবতা: চিলমারী ও রৌমারীর মধ্যকার যাতায়াত ব্যবস্থা কি এতটাই কঠিন যে প্রার্থী নিজেই হাল ছেড়ে দিচ্ছেন?
আদর্শিক অবস্থান: ইসলামী আন্দোলন যেখানে ‘কুরআন-সুন্নাহ’র শাসনের কথা বলে ভোট চাচ্ছে, সেখানে জনৈক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে তারা সেই প্রতিফলন কতটা দেখছে?
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া: ভিডিওটি ঘিরে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় ধরনের মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ একে দেখছেন ‘উদারতা’ হিসেবে, আবার কেউ দেখছেন ‘রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ’ হিসেবে।
রাজনীতির নতুন সমীকরণ
চিলমারীর এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, স্থানীয় নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়েও অনেক সময় ‘কাউকে ঠেকানো’ বা ‘কাউকে জেতানো’র সমীকরণ বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। হাতপাখার প্রার্থীর এই ‘বালতি’ বন্দনা ২৮-কুড়িগ্রাম-৪ আসনের ভোটের ফলাফলকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে রাজনীতির মাঠে নিজের ভোটের বাক্সে ভাগ বসানোর এই ঝুঁকি হাফিজুর রহমানের জন্য বুমেরাং হয় নাকি মাস্টারস্ট্রোক—তার উত্তর মিলবে ভোটের দিন।