বান্দরবান-৩০০ আসনে ভোটের লড়াই জমজমাট: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কে হচ্ছেন আগামীর বান্দরবানের কান্ডারী?
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ।
ক্রাইম রিপোর্ট বান্দরবান পার্বত্য জেলা-
নিউজ রিপোর্ট :
স্বৈরাচার সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা বান্দরবান সংসদীয় ৩০০ নং আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তাপ ছড়িয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ভোটকে কেন্দ্র করে পাহাড়-সমতলজুড়ে প্রার্থীদের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। জনসভা, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও পথসভায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো বান্দরবান।
এই নির্বাচনে চারজন শক্ত প্রার্থী ভোটের মাঠে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে ব্যস্ত। দীর্ঘ সময় পর পরিবর্তনের প্রত্যাশায় সাধারণ ভোটারদের মাঝেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহ ও কৌতূহল—কে হবেন আগামীর বান্দরবানের কান্ডারী?
প্রার্থীরা ও তাদের প্রতীক:
১. সাচিং প্রু জেরী — ধানের শীষ — বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
২. আবু সাঈদ মোঃ সুজা উদ্দিন — শাপলা কলি — এনসিপি
৩. আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ — নাঙ্গল — জাতীয় পার্টি
৪. মোঃ আবু কালাম আজাদ — হাতপাখা — ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী পরিবর্তন ও উন্নয়নের বার্তা দিয়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন চাইছেন। অন্যদিকে এনসিপি প্রার্থী আবু সাঈদ মোঃ সুজা উদ্দিন স্থানীয় সমস্যা সমাধান ও পাহাড়ি অঞ্চলে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তুলে ধরছেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ উন্নয়ন ও স্থিতিশীল রাজনীতির কথা বললেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ আবু কালাম আজাদ নৈতিকতা ও সুশাসনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে অগ্রগতি—এসব ইস্যুই এবারের নির্বাচনে প্রাধান্য পাচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কে পারবেন—এ প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সব মিলিয়ে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট শুধু একজন সংসদ সদস্য নির্বাচনের দিন নয়; বরং বান্দরবানের রাজনৈতিক ইতিহাসে পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় রচনার দিন হিসেবেই দেখছেন সচেতন মহল। এখন সময়ের অপেক্ষা—ভোটারদের রায়ে কে হবেন আগামীর বান্দরবানের কান্ডারী।