জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে মুকসুদপুরে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ,দায়িত্বে রাকিবুল হাসান শুভ
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: মো: রাজু মিয়া
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়েছে নতুন পদক্ষেপ। রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সভায় প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের তদারকির জন্য পৃথকভাবে “ট্যাগ অফিসার” নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান শুভকে মুকসুদপুর ফিলিং স্টেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নিয়মিতভাবে স্টেশনে উপস্থিত থেকে জ্বালানি তেল বিতরণ প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন।
প্রশাসন সূত্র বলছে, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং তেল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখন তুলনামূলকভাবে সুশৃঙ্খল পরিবেশে তেল বিতরণ হচ্ছে। গ্রাহকেরা লাইনে দাঁড়িয়ে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি পাচ্ছেন এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের কোনো অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে মজুতদারি ও কালোবাজারি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
রাকিবুল হাসান শুভ জানান, সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনেই জ্বালানি বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র ও হেলমেটসহ মোটরসাইকেল চালকদের ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি অফিসের অনুমোদিত স্লিপের ভিত্তিতে সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ ২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় কিছু অসন্তোষও দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও তারা চাহিদা অনুযায়ী সেচের ডিজেল পাচ্ছেন না, যার ফলে সেচনির্ভর জমিতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া কৃষকদের আরও অভিযোগ, দিনের বেলায় তেলের সরবরাহ সীমিত রাখা হলেও রাতের বেলায় পরিবহন খাতের যানবাহনগুলোতে নিয়মিত জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের কাছে বৈষম্যমূলক মনে হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই স্থানীয়দের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।