October 28, 2026, 11:46 pm
শিরোনাম:
সখিপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি হলেন বিএম কবির হোসেন । ওসমানীনগরে অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রবাস ও সিএনজির সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৬ ইং ০৮/১০/২০২৬ তারিখ রাত্রীকালিন সারিয়াকান্দি থানা পুলিশের অভিযানে কক্সবাজারে প্রথমবার ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল শুরু ১ নভেম্বর থেকে নিখোঁজের সন্ধান চাই- ৩০ পিস ইয়াবাসহ মানিকগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গ্যাসের দাবিতে উত্তাল কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ মংলা-সুন্দরবন আনন্দ ভ্রমণ উপলক্ষে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রেসক্লাবের উপহার মুকসুদপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিশেষ সভা শরীয়তপুর পদ্মা নদীতে ভারতীয় মদসহ আটক ২

জিনজিরামের ওপর একটি সেতুর অপেক্ষায় ২০ হাজার প্রাণ

কে,এম,জাকির রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

জিনজিরামের ওপর একটি সেতুর অপেক্ষায় ২০ হাজার প্রাণ

কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার লাঠিয়ালডাঙ্গা ও বালিয়ারী গ্রাম। দুই গ্রামের বুক চিরে বয়ে গেছে জিনজিরাম নদী। কিন্তু এই নদীটিই এখন আশীর্বাদের বদলে এলাকার ২০ হাজার মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাতায়াতের জন্য একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে এখানকার মানুষকে নির্ভর করতে হয় নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর। আর এই যাতায়াত দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।

দুর্ভোগ যখন নিত্যসঙ্গী
লাঠিয়ালডাঙ্গা থেকে বালিয়ারী যাওয়ার পথে কোনো উন্নত রাস্তা বা যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা নেই। এলাকার অধিকাংশ মানুষকে পায়ে হেঁটেই হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালে যেতে হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হন গর্ভবতী নারী ও সংকটাপন্ন রোগীরা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় অনেক প্রসূতি মাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়েছে। একটি অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি গাড়ি প্রবেশের ন্যূনতম সুযোগও এখানে নেই।

অবরুদ্ধ ২০ হাজার মানুষের স্বপ্ন
এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াতের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়, তখন অনেক শিক্ষার্থীই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে গিয়ে পরিবহন খরচের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েন। একটি সেতুর অভাবে থমকে আছে এই জনপদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

জনগণের দাবি: একটি স্থায়ী সেতু
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, জিনজিরাম নদীর ওপর একটি স্থায়ী কংক্রিট সেতু নির্মাণ করা হোক। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “আমরা উন্নয়ন চাই না, আমরা শুধু সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য একটি সেতু চাই। আমাদের সন্তানদের নিরাপদে স্কুলে পাঠাতে চাই এবং আমাদের মা-বোনদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার নিশ্চয়তা চাই।”

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
২০ হাজার মানুষের এই আর্তনাদ পৌঁছানোর সময় এখনই। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক এবং আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কাছে এলাকাবাসীর আকুল আবেদন—আর কত প্রাণ গেলে এখানে একটি সেতু হবে? তারা চান, আসন্ন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জিনজিরাম নদীর ওপর লাঠিয়ালডাঙ্গা-বালিয়ারী সেতুটি অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

জীবন ও মরণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা এই অবহেলিত জনপদের মানুষ এখন শুধু একটি স্থায়ী সেতুর সুসংবাদ শোনার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে।

কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
মোবাইলঃ01740453802



https://www.facebook.com/share/1HLvQCbic1/