September 14, 2026, 10:20 pm
শিরোনাম:
কক্সবাজারে টমটম চালক-মালিকদের ২ দিনের অনশন কর্মসূচি শুরু ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত,আহত ১৭ গোবিন্দগঞ্জে ১১ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার শ্রমিকের অধিকারের দাবিতে কক্সবাজার পৌরসভার সামনে অবস্থান কর্মসূচি টলারডুবিতে নিউজিল্যান্ডের কিশোর আলবার্টের মরদেহ উদ্ধার এস,জে উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী উদযাপন আওমীলীগের সকল পথপদবী হইতে অব্যহতি ঘোষণা৷৷ আমি মোঃ লিটন মন্ডল সরকারি মুকসুদপুর কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ মুকসুদপুরে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ শিক্ষার মানোন্নয়নে এসজে উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ

ক্যাসিনোর হাতছানি: যুবসমাজ সহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের তীব্র আসক্তি।

Reporter Name

প্রতিবেদকের নাম: জেলা প্রতিনিধি – মানিকগঞ্জ
স্থান: তেওতা
তারিখ: ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
সম্প্রতি তেওতা-এ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইন ক্যাসিনোর ব্যাপক প্রচলন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে তীব্রভাবে আকৃষ্ট করছে। আপাতদৃষ্টিতে দ্রুত অর্থ উপার্জনের হাতছানি এবং বিনোদনের প্রলোভনে পড়ে বহু মানুষ, বিশেষ করে যুবসমাজ, এই জুয়ার ফাঁদে পড়ছেন। এর ফলে এলাকায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ক্যাসিনোর নেশা: সর্বস্তরের মানুষের আসক্তি
মোবাইল ক্যাসিনো এখন কেবল বিনোদন নয়, বরং একটি ভয়াবহ নেশায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন পেশার এবং বয়সের মানুষ এই সর্বনাশা আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছেন। ছাত্র, শিক্ষক, বেকার যুবক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং বয়স্ক লোকজনও মোবাইল ক্যাসিনোর জুয়ার চক্রে আটকে যাচ্ছেন। এই নেশা সমাজের মূল কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
ক্যাসিনোর আকর্ষণ ও বিপথগামিতা:
* সহজলভ্য প্রবেশাধিকার (মোবাইল ক্যাসিনো): ক্যাসিনো খেলার স্থান ছাড়াও বর্তমানে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন অ্যাপস এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন ক্যাসিনো খেলা সহজলভ্য হওয়ায় মানুষজন যেকোনো স্থান থেকে আসক্ত হচ্ছে। এর ফলে জুয়া খেলার জন্য শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন হচ্ছে না।
* দ্রুত ধনী হওয়ার মিথ্যা আশা: এই অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলো মূলত ‘র‍্যাফেল’, ‘রুলেট’, ‘ব্ল্যাকজ্যাক’ বা বিভিন্ন কার্ড গেমের মাধ্যমে মানুষকে খুব অল্প সময়ে বিপুল টাকা জেতার লোভ দেখায়। এই ফাঁদে পড়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরাও সর্বস্ব বাজি ধরছেন।
* বিপথগামী পেশাজীবীরা: এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছাত্র ও বেকার যুবক ছাড়াও, শিক্ষক, ছোট-বড় ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য কর্মজীবী মানুষ নিয়মিতভাবে মোবাইল ক্যাসিনোতে টাকা লগ্নি করছেন। নিজ নিজ কাজ বা পেশার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে তারা রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক কুফল:
* ঋণগ্রস্ততা ও পারিবারিক অশান্তি: জুয়ার নেশায় আসক্ত হয়ে বহু মানুষ মোটা অঙ্কের ঋণ নিচ্ছেন। ঋণের বোঝা এবং জুয়ায় টাকা হারানোর ফলে পরিবারগুলোতে নিত্যদিনের অশান্তি বাড়ছে, যা বিবাহবিচ্ছেদ এবং পারিবারিক ভাঙ্গনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
* অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি: জুয়ার অর্থ জোগাড় করতে না পেরে অনেকেই চুরি, ছিনতাই এবং ছোটখাটো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। মোবাইল জুয়াকে কেন্দ্র করে অনলাইন অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত প্রতারণা ও অসামাজিক কার্যকলাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
* অর্থনীতির উপর প্রভাব: স্থানীয় অর্থনীতিতে এই অবৈধ লেনদেন কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে না, বরং জুয়ায় জেতা বা হারা টাকা স্থানীয় বাজার থেকে দূরে সরিয়ে বিদেশে পাচার হচ্ছে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও দাবি:
এলাকার প্রবীণ ও সচেতন নাগরিকরা এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তেওতা-এর একজন বাসিন্দা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব‍্যক্তি জানান,”আগে অন্তত জুয়ার জায়গা নির্দিষ্ট ছিল, এখন মোবাইল সবার হাতে হাতে। ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী—সবাই এই নেশায় আসক্ত। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চিন্তিত।
স্থানীয় প্রশাসন, সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সচেতন নাগরিকদের জোর দাবি, অবিলম্বে এই মোবাইল ক্যাসিনো ওয়েবসাইট ও অ্যাপসগুলো বন্ধ করে দিতে হবে এবং যারা এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে, যুবসমাজকে জুয়ার ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে এবং সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করতে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।



https://www.facebook.com/share/1HLvQCbic1/