উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রত্যয়ে বান্দরবানে প্রচারণার তুঙ্গে সাচিং প্রু জেরি।
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ।
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
বান্দরবান-৩০০ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি জনপদ থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি—সবখানেই এখন নির্বাচনী প্রচারণার ব্যস্ততা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ব্যাপক গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, মতবিনিময় সভা ও পথসভায় অংশ নিয়ে সাচিং প্রু জেরি তুলে ধরছেন তার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা।
প্রচারাভিযান প্রসঙ্গে সাচিং প্রু জেরি বলেন,
“পাহাড়ের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। তারা চায় শান্তি, সম্প্রীতি ও প্রকৃত উন্নয়ন। বিগত কয়েক বছরে বান্দরবানের মানুষ যে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে, নির্বাচিত হলে সেই ব্যবধান দূর করাই হবে আমার প্রথম অগ্রাধিকার। আমরা বান্দরবানকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তার সশরীরে মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় নেতাকর্মীরাও নতুন উদ্দীপনায় উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন ভোটার বলেন,
“বান্দরবান-৩০০ আসনে আমরা এমন একজন অভিভাবক চাই, যিনি সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকবেন। জেরি সাহেবের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।”
এদিকে, আসনের অন্যান্য প্রার্থীরাও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর নির্বাচনে অংশ না নেওয়া এবং কয়েকটি দলের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর প্রেক্ষাপটে সাচিং প্রু জেরি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তৃণমূলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ তাকে নির্বাচনী দৌড়ে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে বান্দরবান-৩০০ আসনে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত। এখন পাহাড়বাসীর দৃষ্টি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচনের দিন—যেদিন ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে তাদের ভবিষ্যৎ প্রতিনিধি।