October 28, 2026, 3:55 pm
শিরোনাম:
সখিপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি হলেন বিএম কবির হোসেন । ওসমানীনগরে অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রবাস ও সিএনজির সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৬ ইং ০৮/১০/২০২৬ তারিখ রাত্রীকালিন সারিয়াকান্দি থানা পুলিশের অভিযানে কক্সবাজারে প্রথমবার ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল শুরু ১ নভেম্বর থেকে নিখোঁজের সন্ধান চাই- ৩০ পিস ইয়াবাসহ মানিকগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গ্যাসের দাবিতে উত্তাল কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ মংলা-সুন্দরবন আনন্দ ভ্রমণ উপলক্ষে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রেসক্লাবের উপহার মুকসুদপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিশেষ সভা শরীয়তপুর পদ্মা নদীতে ভারতীয় মদসহ আটক ২

তেওতা জমিদার বাড়ি: ইতিহাসের সাক্ষী এক ধ্বংসস্তূপ কবি নজরুলের স্মৃতিধন্য এই হেরিটেজ রক্ষায় জরুরি আহ্বান

Reporter Name

জেলা প্রতিনিধিঃ মানিকগঞ্জ
তারিখ, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫
মানিকগঞ্জ: শতবর্ষের ঐতিহ্য আর কালের সাক্ষী বহন করে দাঁড়িয়ে আছে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা জমিদার বাড়ি। একসময় যেখানে ছিল আভিজাত্য, জৌলুস আর সাংস্কৃতিক প্রাণচাঞ্চল্য, আজ সেই প্রাসাদ প্রাঙ্গণ কেবলই অবহেলা, ধ্বংস আর জীর্ণতার প্রতীক। পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপত্যটি ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে।
জমিদার ও ঐতিহাসিক সংযোগ
তেমন জমিদার বাড়িটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জমিদার হিমশংকর রায় ও জয় শংকর রায় এবং তাঁদের পরিবার। তাঁদের হাতেই গড়ে ওঠে এই বিশাল প্রাসাদ এবং তিনটি মহল—বড় তরফ, মেজ তরফ ও ছোট তরফ।
এই বাড়িটি শুধু স্থাপত্য নয়, বাংলার শিল্প-সাহিত্যের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং তাঁর পত্নী প্রমীলা দেবীর স্মৃতি। কবি একাধিকবার এই বাড়িতে এসেছিলেন এবং এই অঞ্চলের প্রকৃতি ও পরিবেশে অনেক সময় কাটিয়েছেন, যা তাঁর সাহিত্যকর্মেও প্রভাব ফেলেছিল। এছাড়াও, কিংবদন্তি সুরসাধক শচীন দেববর্মণের শৈশবের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এই জমিদার বাড়ির সংলগ্ন এলাকায়।
বর্তমান করুণ চিত্র
জমিদার বাড়িটির মূল আকর্ষণ হলো এর বিশাল তিনটি মহল। কিন্তু বর্তমানে পুরো এলাকা আগাছা আর লতাপাতায় ঢাকা। ছাদ ও দেয়াল খসে পড়ছে, মূল্যবান কারুকাজযুক্ত স্তম্ভগুলো ভেঙে গেছে। বৃষ্টি ও পরিবেশগত কারণে কাঠামোটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করলেও বাস্তবে এর রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। জমিদারির অভ্যন্তরে অবাধ প্রবেশাধিকার থাকায় স্থানীয়রা এর বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করছে, যা স্থাপত্যের আরও ক্ষতি করছে।
অবহেলার কারণ ও পরিণতি
স্থানীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাস গবেষকদের মতে, জমিদার হিমশংকর ও জয় শংকর রায়ের প্রতিষ্ঠিত এই বাড়ি এবং নজরুলের স্মৃতিধন্য স্থানটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন। এটির অবহেলার প্রধান কারণগুলি হলো:
• সংরক্ষণের জন্য অপর্যাপ্ত তহবিল: প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব।
• মনিটরিংয়ের অভাব: তালিকাভুক্ত হলেও নিয়মিত তদারকি এবং সংস্কার কাজের কোনো পরিকল্পনা না থাকা।
• স্থানীয়দের অসচেতনতা: ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে এর গুরুত্ব সম্পর্কে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতার অভাব।
এই অবহেলা চলতে থাকলে, অদূর ভবিষ্যতে তেওতা জমিদার বাড়ি কেবল ছবিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, যা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
সংরক্ষণে আশু করণীয়
তেমন জমিদার বাড়ীর ঐতিহ্য রক্ষায় দ্রুত নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা অপরিহার্য:
1. জরুরি মেরামত ও সংস্কার: দেয়াল ও ছাদের খসে পড়া অংশগুলো দ্রুত মেরামত করা এবং কাঠামোকে স্থিতিশীল করা।
2. বিশেষ নজরদারি: নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত অংশগুলি চিহ্নিত করে বিশেষ সংরক্ষণ ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা।
3. নিরাপত্তা ব্যবস্থা: জমিদার বাড়ির চারপাশে বেড়া বা প্রাচীর নির্মাণ করে অবাধ প্রবেশাধিকার বন্ধ করা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা।
4. পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা: এটিকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং সংরক্ষণের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা।
উপসংহার:
তেমন জমিদার বাড়ি শুধু জমিদার হিমশংকর ও জয় শংকর রায়ের আভিজাত্য বা একটি ভবন নয়, এটি আমাদের জাতীয় কবির স্মৃতি ও বাংলার অতীতের একটি জীবন্ত দলিল। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আজ সময়ের দাবি। ঐতিহ্যকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ইতিহাসের সাক্ষী হতে বঞ্চিত হবে।



https://www.facebook.com/share/1HLvQCbic1/