বাঁশের সাঁকোয় জন্ম নিল প্রাণ: আমাদের উন্নয়ন কি তবে কেবলই প্রচারণায়?
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সুতির পাড় গ্রাম। যেখানে উন্নয়নের চাকচিক্য এখনো পৌঁছাতে পারেনি জরাজীর্ণ এক বাঁশের সাঁকোর বাধায়।অদ্য এই সাঁকোটি পার হওয়ার সময় এক গর্ভবতী মায়ের প্রসব বেদনা শুরু হয় এবং সেখানেই তিনি এক ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দেন। মা ও শিশুর নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও, এই ঘটনাটি আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে আমাদের গ্রামীণ অবকাঠামোর কঙ্কালসার দশা।
ভোগান্তির নাম ‘সুতির পাড়’
দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষ একটি স্থায়ী ব্রিজের দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা। প্রসূতি মা কিংবা মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবার নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভোটের পর আর কেউ সুতির পাড়ের মানুষের কথা মনে রাখে না।
নির্বাচনের মৌসুমে সরব এলাকা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা যখন দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের রঙিন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, তখন সুতির পাড় গ্রামের মানুষের চাওয়া খুবই সামান্য—একটি নিরাপদ ব্রিজ। এলাকাবাসীর কণ্ঠে এখন কেবল একটিই দাবি:
“আমাদের ত্রাণ চাই না, সাহায্য চাই না; শুধু একটা ব্রিজ দিন যেন আর কোনো মা-কে বাঁশের সাঁকোয় সন্তান জন্ম দিতে না হয়।”
প্রার্থীদের প্রতি খোলা চিঠি
এলাকার সাধারণ ভোটাররা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এবার আর কোনো ফাঁকা বুলিতে তারা ভুলবেন না। যে প্রার্থী এই ব্রিজ নির্মাণের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দেবেন, তাকেই তারা আগামীর প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিতে চান। রৌমারীর এই ঘটনা কেবল একটি সংবাদ নয়, এটি আধুনিক বাংলাদেশের মানচিত্রে এক বড় কলঙ্ক।
প্রযুক্তি আর উন্নয়নের এই যুগে এসেও যদি একজন মাকে খোলা আকাশের নিচে নড়বড়ে সাঁকোয় সন্তান জন্ম দিতে হয়, তবে সেই দায়ভার সংশ্লিষ্ট সকল জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের। আগামী সংসদ নির্বাচনে যারা জয়ী হয়ে সংসদে বসবেন, তাদের কাছে সুতির পাড়বাসীর প্রশ্ন— আপনাদের উন্নয়নের তালিকায় কি এই জরাজীর্ণ গ্রামটি জায়গা পাবে?
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
মোবাইলঃ01740453802