বান্দরবানে ভোটের উত্তাপ: জামায়াত এগিয়ে, বিএনপিতে বিভাজন
নুরুল আবছকর| বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবান-৩০০ আসনে ভোটের প্রস্তুতি তুঙ্গে। মনোনয়ন জমা, নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বিশ্লেষণে স্পষ্ট—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছেন।
জামায়াত জেলা শাখার নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। একই দিনে বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরি মনোনয়ন জমা দিলেও দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখনো কাটেনি, যা নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।
জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম: মাঠে সক্রিয়, জনপ্রিয়তায় এগিয়ে
দীর্ঘ এক যুগ পর বান্দরবান-৩০০ আসনে জামায়াত প্রার্থী থাকায় অ্যাডভোকেট আবুল কালাম মাঠে দ্বিগুণ উদ্যমে রয়েছেন। সাতটি উপজেলা ও দুই পৌরসভায় নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করে তিনি নির্বাচনী মাঠে আলাদা প্রভাব তৈরি করেছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও বান্দরবান সদরে জামায়াতের সুসংগঠিত ভোট ব্যাংক এবং তার নিজস্ব জনপ্রিয়তা তাকে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত–এনসিপি জোটের বাস্তবতায় বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার একমাত্র কার্যকর প্রার্থী হচ্ছেন আবুল কালাম।
তিনি এর আগে জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নির্বাচকদের নজর কাড়ছে।
আবুল কালামের বক্তব্য:
“আমি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের সেবার জন্য রাজনীতি করি। পাহাড়ি–বাঙালি নির্বিশেষে সব জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার, শিক্ষা–স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।”
এনসিপি সমর্থন: জামায়াতের শক্তি আরও বৃদ্ধি
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় দেখা গেছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর নেতা ও কর্মীরাও জামায়াত প্রার্থী আবুল কালামের পক্ষে সক্রিয়। আদর্শিক মিল ও রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে তারা প্রচারণা ও গণসংযোগে জামায়াতের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। এতে জামায়াত প্রার্থীর সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচনী সম্ভাবনা আরও দৃঢ় হয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরি: মাঠে আছে, কিন্তু বিভাজন রয়ে গেছে
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরিও লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রোয়াংছড়ি ও সদর এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা এবং নেতা–কর্মী বৈঠকে সক্রিয়। তবে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ—বিশেষ করে মনোনয়ন প্রত্যাশী জাবেদ রেজার সমর্থকদের অসন্তোষ এখনো কাটেনি।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিভাজন বিএনপির মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে শ্লথ করছে এবং সরাসরি জামায়াত প্রার্থীর জন্য সুবিধা তৈরি করছে। এক্ষেত্রে সাচিং প্রু জেরি প্রার্থীর পদক্ষেপ যতই সক্রিয় হোক, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুরোপুরি শক্ত অবস্থানে রাখতে পারছে না।
নতুন ভোটার তালিকা: নারী ভোটে জামায়াতের সুবিধা
নতুন ভোটার তালিকা অনুযায়ী বান্দরবান জেলায় মোট ভোটার ৩,১৫,৪২২ জন, যার মধ্যে পুরুষ ১,৬১,৭৭৫ জন এবং নারী ১,৫৩,৬৪৭ জন। নতুন ভোটার হিসেবে তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ৭,৪৬৯ জন, যেখানে নারীর সংখ্যা বেশি।
মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নারী ভোটারদের একটি বড় অংশ জামায়াত প্রার্থী আবুল কালামের পক্ষে। নারীর নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও নৈতিক রাজনীতির প্রতি তার অবস্থান তাদের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ: জামায়াতের সুবিধা স্পষ্ট
জামায়াত প্রার্থী মাঠে সক্রিয় ও সংগঠিত
এনসিপি সমর্থন শক্তি বৃদ্ধি করছে
নতুন ও নারী ভোটারদের ইতিবাচক সাড়া
বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ কার্যক্রমে ব্যাঘাত
এসব বিবেচনায় বান্দরবান-৩০০ আসনে জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন, এবং নির্বাচনকে ঘিরে পার্বত্য বান্দরবান আসন দেশের অন্যতম কৌশলগত ও উত্তপ্ত নির্বাচনী কেন্দ্র হিসেবে নজর কাড়ছে।