প্রতিবেদন: রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতা লাঞ্ছিত; অভিযুক্ত রিতার সমর্থকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ তারিখ: ৫ জানুয়ারি, ২০২৬
মানিকগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের শুরুতেই জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের অভ্যন্তরে অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন এক ঘটনা ঘটেছে। গতকাল দুপুরে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও বৈধতার ঘোষণা চলাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খান রিতার অনুসারী নেতাকর্মীদের হাতে চরমভাবে হেনস্থা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন।
গতকাল ছিল মানিকগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ও বৈধতা ঘোষণার নির্ধারিত দিন। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষে সব প্রার্থী ও তাদের প্রস্তাবক-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ১টার দিকে কার্যক্রম চলাকালীন হঠাৎ করেই সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, যাচাই-বাছাই চলাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খান রিতার কিছু অনিয়মের বিষয় সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। এতে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং পরিবেশ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে আফরোজা খান রিতার পক্ষে উপস্থিত একদল নেতাকর্মী ও অনুসারী আতাউর রহমান আতাকে লক্ষ্য করে চিৎকার শুরু করেন এবং তাকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে বলেন। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে রিতার সমর্থকরা তাকে ঘিরে ধরে ধাক্কা দিতে দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের কক্ষ থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ের ভেতরে একজন প্রার্থীর ওপর এমন আচরণে সাধারণ ভোটার ও অন্য প্রার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হেনস্থার শিকার স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যখন আমরা সবাই বৈধতার ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলাম, ঠিক তখনই রিতা প্রার্থীর লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমি কেবল কিছু অনিয়মের কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাকে লাঞ্ছিত করেছে, ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে এবং ভয়ভীতি দেখিয়েছে। সরকারের এত নিরাপত্তার মাঝেও যদি কার্যালয়ের ভেতরে একজন প্রার্থী এভাবে আক্রান্ত হয়, তবে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।”
অন্যদিকে, সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ভোটার জানান, মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পরপরই রিতার সমর্থকরা উগ্র আচরণ শুরু করেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নির্বাচনী সংস্কৃতির পরিপন্থী।
এই ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কার্যালয়ের ভেতরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।