October 28, 2026, 8:59 am
শিরোনাম:
সখিপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি হলেন বিএম কবির হোসেন । ওসমানীনগরে অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রবাস ও সিএনজির সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৬ ইং ০৮/১০/২০২৬ তারিখ রাত্রীকালিন সারিয়াকান্দি থানা পুলিশের অভিযানে কক্সবাজারে প্রথমবার ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল শুরু ১ নভেম্বর থেকে নিখোঁজের সন্ধান চাই- ৩০ পিস ইয়াবাসহ মানিকগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গ্যাসের দাবিতে উত্তাল কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ মংলা-সুন্দরবন আনন্দ ভ্রমণ উপলক্ষে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রেসক্লাবের উপহার মুকসুদপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিশেষ সভা শরীয়তপুর পদ্মা নদীতে ভারতীয় মদসহ আটক ২

৫ বছর পর জাতীয় নির্বাচন শুরু জান্তাশাসিত মিয়ানমারে

আল আমিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি

আল আমিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি:

প্রায় পাঁচ বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে। ২০২১ সালে সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এটিই দেশটিতে প্রথম জাতীয় নির্বাচন।

মিয়ানমারের জান্তানিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশনের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, আজ ২৮ ডিসেম্বর থেকে আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন ধাপে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে আজ রাজধানী নেইপিদো, বাণিজ্যিক রাজধানী ও বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন, দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়সহ জান্তা নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি শহর ও গ্রামাঞ্চলে ভোটগ্রহণ চলছে।

স্থানীয় সময় সকাল ৬টা (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিট) থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পার্লামেন্ট ও প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল ও প্রদেশগুলোতে ভোটগ্রহণ হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে। সে নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এনএলডি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। ওই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং।

অভ্যুত্থানের পরপরই অং সান সু চিসহ এনএলডির শীর্ষ নেতারা, সংসদ সদস্য ও হাজার হাজার কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এখনও কারাবন্দি রয়েছেন। সু চির বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে, যেগুলো প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১৫০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ২০২৩ সালে জান্তাশাসিত নির্বাচন কমিশন এনএলডিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

ফলে এবারের নির্বাচনে এনএলডি অংশ নিচ্ছে না। পাশাপাশি ২০২০ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই এবারের নির্বাচন বর্জন করেছে। বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) সবচেয়ে বড় দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভোট শেষে তারাই সরকার গঠন করবে।

এদিকে, জান্তা ক্ষমতা দখলের প্রায় ছয় মাস পর থেকেই বিভিন্ন জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। ২০২৩ সাল থেকে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সামরিক বাহিনীকে পরাজিত করে এলাকা দখলে নিয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন প্রদেশসহ মিয়ানমারের প্রায় ৩৩ শতাংশ এলাকা আরাকান আর্মি, কারেন লিবারেশন ফোর্সসহ একাধিক জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব এলাকা এবং অন্তত পাঁচটি প্রদেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে না বলে জানিয়েছে এএফপি।

অং সান সু চির ছেলে কিম অ্যারিস, যিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, এএফপিকে বলেন, “এটি একটি অর্থহীন নির্বাচন। আমার মা এবং মিয়ানমারের অধিকাংশ মানুষ এমনটাই মনে করেন।”



https://www.facebook.com/share/1HLvQCbic1/