সীমান্তজুড়ে ইয়াবার ভয়াল থাবা’: মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে বান্দরবানে অব্যাহত মাদক প্রবেশ, আটক হচ্ছে সেবনকারী — অধরাই মূল সিন্ডিকেট।
মোঃমাহফুজুর রহমান মোর্শেদ।
ক্রাইম রিপোর্টার বান্দরবান পার্বত্য জেলা -ক্রাইম নিউজ!
মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি পথ, জিরি পথ, ছড়া ও সীমান্তঘেঁষা গোপন রুট ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত দেশে প্রবেশ করছে ভয়ংকর মাদক ইয়াবা।
সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজন মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতাকে আটক করা হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মূল পাচারকারী সিন্ডিকেট। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ ও কৌতূহল বাড়ছে দিন দিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচার চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে পাহাড়ি জিরি পথ, বনাঞ্চল ও গোপন সীমান্ত রুট ব্যবহার করে মাদক দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। পরে তা বান্দরবান হয়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে।
মাদক প্রবেশের উল্লেখযোগ্য পয়েন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া সীমান্ত এলাকা, তৈন খাল জিরি পথ, ক্রাইক্ষ্যং পাহাড়ি রুট, আমতলী ও গজালিয়া সংযোগ দুর্গম পাহাড়ি পথ। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত, তুমব্রু এলাকা, বাইশারী পাহাড়ি রুট, দোছড়ি ও জামছড়ি সংযোগ পথও বর্তমানে মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত। এছাড়া লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী, সরই ইউনিয়নের গোপন পাহাড়ি পথ ও আজিজনগর সীমান্তবর্তী ছড়া পথ ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি ট্রেইল, বনাঞ্চল ও ঝিরি পথ এবং থানচি উপজেলার বড় মদক সীমান্ত এলাকা, রেমাক্রি, নাফাখুম সংযোগ পাহাড়ি রুট ও সাঙ্গু নদীপথ ব্যবহার করেও মাদক পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা প্রবেশের পর তা দ্রুত বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে একদিকে যেমন তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে, অন্যদিকে বাড়ছে সামাজিক অপরাধ, চুরি, ছিনতাই ও সহিংসতা। সম্প্রতি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কয়েকজন মাদকসেবী ও খুচরা কারবারিকে আটক করা হলেও মূল হোতারা এখনো আড়ালেই রয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর মতে, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, পাহাড়ি রুটে যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে এখনই কঠোর ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনার বিকল্প নেই।