রৌমারীতে ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল: রাজনীতিতে শুদ্ধাচার ও শৃঙ্খলার নতুন অঙ্গীকার
কে.এম.জাকির,রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিলে উত্তাল হয়ে উঠেছে রৌমারীর রাজপথ। বৃহস্পতিবার (০৭ মে ২০২৬) বিকেলে রৌমারী উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত এই মিছিলটি কেবল উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং কর্মীদের প্রতি নেতৃত্বের কঠোর হুঁশিয়ারি ও সুশৃঙ্খল আচরণের মাধ্যমে এক ভিন্নধর্মী বার্তা দিয়েছে।
রাজপথে শক্তির মহড়া ও কৃতজ্ঞতা বিকেল ৫টায় রৌমারী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়। ব্যানার ও ফেস্টুনে সুসজ্জিত হয়ে উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। উপজেলা চত্বরে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নেতৃবৃন্দ। কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় তারা বিএনপির চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নেতৃত্বে যারা ছিলেন
মিছিলটির অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দেন রৌমারী উপজেলা ও কলেজ ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: মোঃ নাজমুল হোসাইন রানা, আহ্বায়ক, রৌমারী উপজেলা ছাত্রদল।
মোঃ ফারুক আহমেদ বাবু, সদস্য সচিব, রৌমারী উপজেলা ছাত্রদল। মোঃ শামীম হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক, রৌমারী উপজেলা ছাত্রদল। মোঃ হারুন অর রশিদ, সভাপতি, রৌমারী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদল। অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা সমাবেশে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ নাজমুল হোসাইন রানা তার বক্তব্যে অত্যন্ত কঠোর ও সময়োপযোগী বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যদি কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাকে কেবল সাংগঠনিক শাস্তিই নয়, সরাসরি দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।”
রাজনীতির মাঠে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে ছাত্রনেতাদের এমন সাহসী অবস্থানকে স্থানীয় সচেতন মহল ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনের ভূমিকা ও শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি কর্মসূচি চলাকালীন রৌমারী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি ডিএসবি’র সাদা পোশাকধারী সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখেন। কোনো ধরনের উস্কানি বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচিটি সম্পন্ন হয়, যা দীর্ঘ দিন পর রৌমারীর রাজনৈতিক অঙ্গনে এক স্থিতিশীল পরিবেশের প্রতিফলন ঘটায়। নতুন জেলা কমিটির হাত ধরে রৌমারী উপজেলা ছাত্রদল আরও সুসংগঠিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তৃণমূল কর্মীদের। তবে নেতৃত্বের দেওয়া ‘শৃঙ্খলার বার্তা’ কর্মীরা কতটুকু পালন করেন, তার ওপরই নির্ভর করছে সংগঠনটির আগামীর ইমেজ।