October 28, 2026, 10:25 am
শিরোনাম:
সখিপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি হলেন বিএম কবির হোসেন । ওসমানীনগরে অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রবাস ও সিএনজির সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৬ ইং ০৮/১০/২০২৬ তারিখ রাত্রীকালিন সারিয়াকান্দি থানা পুলিশের অভিযানে কক্সবাজারে প্রথমবার ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল শুরু ১ নভেম্বর থেকে নিখোঁজের সন্ধান চাই- ৩০ পিস ইয়াবাসহ মানিকগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গ্যাসের দাবিতে উত্তাল কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ মংলা-সুন্দরবন আনন্দ ভ্রমণ উপলক্ষে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রেসক্লাবের উপহার মুকসুদপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিশেষ সভা শরীয়তপুর পদ্মা নদীতে ভারতীয় মদসহ আটক ২

নাটোরে এমবি গেম খেলে নিঃস্ব হচ্ছে যুবসমাজ ।

Reporter Name

নাটোর প্রতিনিধি : মোঃ আলমগীর কবির
নাটোর জেলায় অনলাইন ও মোবাইল গেমে আসক্তি এখন আর শুধু বিনোদনের সীমায় নেই—এটি রূপ নিচ্ছে ভয়াবহ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক বিপর্যয়ে। বর্তমানে ‘এমবি (MB)’ নামক একটি গেমসহ বিভিন্ন অনলাইন গেম কিশোর ও তরুণ সমাজকে আর্থিকভাবে নিঃস্ব করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে চরম হতাশা, উদ্বেগ ও মানসিক ভাঙন সৃষ্টি করছে। দ্রুত ও সহজ লাভের প্রলোভনে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে শেষ পর্যন্ত নিঃস্ব হয়ে পড়ছে বহু তরুণ। এই অর্থের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে বিদেশি গেম কোম্পানি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের হাতে, অথচ স্থানীয় সমাজের ভাগ্যে জুটছে শুধু হতাশা ও সংকট।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফ্রি ফায়ার, পাবজি, অনলাইন ক্যাসিনো ও বিভিন্ন ব্যাটল গেমের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ‘এমবি (MB)’ গেমটি নাটোরের কিশোর-যুবকদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। অল্প সময়ে টাকা দ্বিগুণ করার লোভ দেখিয়ে গেমটি অনেককে নিয়মিত বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগে প্ররোচিত করছে। ডায়মন্ড, কয়েন ও বিভিন্ন ইন-গেম সুবিধা কিনতে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন লেনদেন ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে অনেকে টিউশনির টাকা, পরিবারের শেষ সঞ্চয় এমনকি ধারকর্জের অর্থও গেমে হারাচ্ছে।
জেলার তথ্য অনুযায়ী, নাটোরে রয়েছে ৭টি উপজেলা—নাটোর সদর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, বাগাতিপাড়া, গুরুদাসপুর, লালপুর ও নলডাঙ্গা এবং প্রায় ১,৩৭৭টি গ্রাম। প্রতিটি গ্রাম থেকে যদি গড়ে প্রতিনিয়ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা অনলাইন ও মোবাইল গেমে ব্যয় হয়, তাহলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২০৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বিপুল অঙ্কের অর্থের সিংহভাগই দেশের বাইরে বিদেশি গেম কোম্পানি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাচার হচ্ছে।
কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত খেলোয়াড় ক্ষোভ ও হতাশার সুরে জানান,
“প্রথমে শখ করে গেম খেলতাম। পরে এমবি গেমে জড়িয়ে পড়ে একের পর এক টাকা ঢেলেছি। এখন মাস শেষে সংসারের খরচ চালানোই কঠিন হয়ে গেছে।”
সমাজসেবক ও শিক্ষকদের মতে, গেম আসক্তির কারণে তরুণদের মধ্যে মারাত্মক হতাশা, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ও মানসিক অস্থিরতা বাড়ছে। পড়ালেখায় অমনোযোগ, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং পরিবার ও সমাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে আসক্ত থাকার ফলে চোখের সমস্যা, ঘুমের অভাব ও আচরণগত পরিবর্তনের পাশাপাশি অবসাদ ও বিষণ্নতার লক্ষণও বাড়ছে বলে তারা সতর্ক করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাটোর থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বিদেশি গেম কোম্পানি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে গেলেও এর বিনিময়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই। বরং আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মানসিক অবসাদ, পারিবারিক কলহ, ঋণের বোঝা এবং সামাজিক অবক্ষয়। অল্পসংখ্যক তরুণ পেশাদারভাবে গেমিং করে আয় করলেও অধিকাংশের ক্ষেত্রে এই গেম আসক্তি জীবন ও ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে গেম আসক্তি নিয়ন্ত্রণে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা, কাউন্সেলিং ব্যবস্থা জোরদার এবং খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিনির্ভর ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না করলে হতাশাগ্রস্ত একটি প্রজন্ম তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



https://www.facebook.com/share/1HLvQCbic1/