গাইবান্ধায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের দায়ে সরিয়ে রাখা হলো উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিশিরকে
গাইবান্ধা : গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিরূপ ও অবমাননাকর মন্তব্য করার দায়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাইবান্ধা কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিশির চন্দ্র দেবনাথকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে বিষয়টি মোবাইল ফোনে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. মেহেদী হাসান।
তিনি মুঠোফোনে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে শিশির চন্দ্র দেবনাথকে দফতরের সকল কার্যক্রম থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বদলীর বিষয়টি এই মুহূর্তে করা যাচ্ছেনা। কেননা আমরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তবে তাকে বদলীর জন্য উপর মহলে শুপারীশ করা হয়েছে ।
এছাড়া তিনি সাংবাদিক নেতৃবৃন্দদের আশ্বস্ত করে জানান, ঠিক এই মুহূর্ত থেকে তিনি (অভিযুক্ত উপ সহকারী প্রকৌশলী) গাইবান্ধার কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। সকল কাজ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ১৩ ডিসেম্বর গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সকল সাংবাদিককে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন শিশির চন্দ্র দেব নাথ। এ ঘটনার পর জেলায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দুপুর ১২টার দিকে গাইবান্ধা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় ঘেরাওয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ঘণ্টাব্যাপী শিক্ষা প্রকৌশলীর কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন সাংবাদিকরা। তবে সাংবাদিকদের কর্মসূচির খবর পেয়ে বিতর্কিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিশির চন্দ্র দেবনাথ আগেই অফিস ত্যাগ করে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করতে পারেন না। এ ধরনের আচরণ শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যও হুমকি। তারা শিশির চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উল্লেখ, এরআগে গেল বছরের গত ৩০ সেপ্টেম্বর এই বিতর্কিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিশির চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে মামলা করেন দিশা নামের গাইবান্ধার এক নারী সাংবাদিক। মামলায় বলা হয়,
ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে তথ্য ও বিজ্ঞাপন সংগ্রহের জন্য দিশা আক্তার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিশির চন্দ্র দেবনাথের কক্ষে প্রবেশ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন। এ সময় দিশার হাত থেকে মোবাইল ফোনও কেড়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে এ ঘটনায় দিশা আক্তার বাদি হয়ে সদর থানায় (নং-৪৯) ওই দফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী বেলাল আহমেদ ও শিশির চন্দ্র দেবনাথকে আসামি করে মামলা করেন।