মুকসুদপুরে জমি বিরোধ ঘিরে ‘রিজিক হাইওয়ে ইন’ নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: মো: রাজু মিয়া //
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের জোয়ারিয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং “রিজিক হাইওয়ে ইন চাইনিজ এন্ড বাংলা রেস্টুরেন্ট” স্থাপন নিয়ে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় মুকসুদপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম শেখ এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব বৈধ মালিকানাধীন জমির পূর্বাংশ ভোগদখল করে আসছে। অপরদিকে একই জমির পশ্চিমাংশ দখলে রেখেছেন পার্শ্ববর্তী দিগনগর গ্রামের আবু জাফর মুন্সী। সিরাজুল ইসলাম শেখ অভিযোগ করেন, তিনি চাকরিসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে কয়েক মাস আগে আবু জাফর মুন্সী ও তার ছেলে সেতু মুন্সী তাদের পূর্বাংশের জমিতে কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই “রিজিক হাইওয়ে ইন চাইনিজ এন্ড বাংলা রেস্টুরেন্ট” নামে একটি স্থাপনার নির্মাণকাজ শুরু করেন।
বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বাড়িতে এসে নির্মাণকাজে বাধা দিলে তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে গত ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে গোপালগঞ্জের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার নম্বর ১১৫/২৬।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে একই বিরোধকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আবু জাফর মুন্সী ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আমলী আদালত, মুকসুদপুরে সিরাজুল ইসলাম শেখ, তার ভাই মিজানুর রহমান শেখ এবং ৮৫ বছর বয়সী পিতা ফজলু শেখকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার নম্বর সিআর মুক: ১৯৪/২৬।
সিরাজুল ইসলাম শেখ অভিযোগ করেন, গত ১৩ এপ্রিল “রিজিক রেস্টুরেন্ট স্থাপনা চাঁদা দাবি, কাজে বাধা ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা” শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে তাদের পরিবারকে জড়িয়ে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সামাজিকভাবে তাদের সম্মানহানি করেছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
তিনি দাবি করেন, বাস্তবে তাদের রেকর্ডীয় ও দলিলভুক্ত জমির ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে এই নির্মাণকাজ সড়ক ও জনপদ বিভাগের মহাসড়কের চলাচল নিরাপত্তা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করছে।
এছাড়া, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও আইন ও প্রশাসনিক নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে নির্মাণকাজ চালানোর অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিজেদের অবৈধ কর্মকাণ্ড আড়াল করতে তার পরিবারকে জড়িয়ে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন সিরাজুল ইসলাম শেখ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।