গরম খুন্তির ছ্যাঁকা ও বাথরুমে আটকে রেখে ১১ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ
মোঃ ফরিদ হোসেন গাজীপুর পতিনিধি
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহপরিচারিকা। অভিযোগ রয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের বাসায় কাজ করার সময় শিশুটিকে দীর্ঘদিন নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে।
শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার দাগ রয়েছে। গলা, পিঠ, হাত ও পাসহ শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। বর্তমানে সে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শিশুটির মা প্রায় তিন বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর দাদির কাছে এবং পরে এক প্রতিবেশীর কাছে বড় হয় সে। আর্থিক সংকট ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সাত মাস আগে মেয়েকে বিমানের এমডির বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজে দেন বাবা। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন শিশুটির ভবিষ্যৎ বিয়ে ও অন্যান্য খরচ বহনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
শিশুটির বাবা জানান, গত ৩১ জানুয়ারি এমডির স্ত্রী ফোন করে জানান তার মেয়ে অসুস্থ এবং তাকে নিয়ে যেতে হবে। বাসায় গিয়ে তিনি মেয়ের শরীরে গুরুতর জখম ও পোড়া দাগ দেখতে পান। প্রথমে এগুলো এলার্জির কারণে হয়েছে বলে দাবি করা হলেও পরে শিশুটি নির্যাতনের বিস্তারিত জানায়।
শিশুটির ভাষ্যমতে, কাজের ভুল হলে তাকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো, মারধর করা হতো এবং দিনের পর দিন বাথরুমে আটকে রাখা হতো। অনেক সময় খাবারও দেওয়া হতো না। এমডি বাসায় থাকলে তাকে আড়ালে রাখা হতো বলেও অভিযোগ করেছে শিশুটি।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ খলিলুর রহমান জানান, শিশুটির শরীরের আঘাতগুলো দীর্ঘ সময় ধরে করা হয়েছে। বিভিন্ন আঘাত ১০ দিন থেকে শুরু করে এক-দুই মাস আগের। অপুষ্টির লক্ষণও রয়েছে। সুস্থ হতে অন্তত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে।
শিশু নির্যাতনের অভিযোগে গত রোববার উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা। মামলায় বিমানের এমডি সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি আক্তারসহ চারজনকে আসামি করা হয়। ওই রাতেই উত্তরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার চার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।