যশোরের কেশবপুরে উপজেলার সাগরদত্তকাটি গ্রামে হাডুডু খেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত নয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরবাইরেও আরও ১৫/২০ জন সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলেগিয়েছেন
গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে শুরু হওয়া এই মারামারি রাত নয়টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলতে থাকে।
এলাকার লোকজনের মারফত জানা যায়, শনিবার দিনব্যাপী উপজেলার সাগরদত্তকাটি মধ্যপাড়ায় ৮ দলীয় হাডুডু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কেশবপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান আজিজকে মনোনীত করা হয়। এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মুকুল হোসেনের অনুসারীরা তারা প্রধান অতিথি নির্বাচনের বিরোধিতা করে আজিজের সাথে কথা কাটাকাটি হয এর মারামারির সুত্র পাত ঘটে এতে আজিজ গুরুতর আহত হন। পরে তার অনুসারীরাও পাল্টা হামলা চালালে মারামারি ছড়িয়ে পড়ে।
দুই গ্রুপের মধ্যে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া চলে। মারামারিতে ছাত্রদলের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মাসুদ ও সুমনসহ অন্তত ৯ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে আজিজ, মাসুদ ও সুমনকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফার্ড করা হয়েছে। এছাড়া ইমন, রাকিব, কামরুলসহ নয়জন বর্তমানে কেশবপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেশবপুর থানা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে অবস্থান নেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, বিএনপি’র দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির খবরে তিনি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রধান অতিথি নিয়ে দ্বন্দ্ব বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। মোট নয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনকে খুলনায় পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।